• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫২ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
পুলিশ কোন দিকে যাবে! আইজিপির বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা প্রদান। পেশাদারিত্ব, সততা ও আধুনিকায়নের রূপকার: আইজিপি মোঃ আলী হোসেন ফকিরের বর্ণাঢ্য কর্মজীবন ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে ন্যাশনাল লইয়ার্স কাউন্সিলের গভীর শোক রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা: তীব্র নিন্দা জানালেন ন্যাশনাল লইয়ার্স কাউন্সিল(এনএলসি) ডিএমপির নতুন ভারপ্রাপ্ত কমিশনার নজরুল ইসলামকে অভিনন্দন জানালেন ন্যাশনাল লইয়ার্স কাউন্সিল শুভ বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে শুভেচ্ছা বার্তা ন্যাশনাল লইয়ার্স কাউন্সিল- মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে এনএলসি চেয়ারম্যানের শুভেচ্ছা দেশবাসীকে পবিত্র ঈদুল ফিতর-এর শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ন্যাশনাল লইয়ার্স কাউন্সিল নবনিযুক্ত পুলিশের আইজিপি আলী হোসেন ফকিরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ন্যাশনাল লইয়ার্স কাউন্সিল নির্বাচন নিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে যে বার্তা দিলেন প্রধান উপদেষ্টা

পুলিশ কোন দিকে যাবে! আইজিপির বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা প্রদান।

Reporter Name / ১৩২ Time View
Update : সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬

পুলিশ কোন দিকে যাবে! আইজিপির বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা প্রদান।
বাংলাদেশ পুলিশ এর আইজিপি আলী হোসেন ফকির বলেছেন
“দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত পুলিশের প্রয়োজন, এটা স্বীকার করে নিয়ে আইন এবং সংবিধান অনুযায়ী আমাকে দায়িত্ব পালন করতে দিন।”
“আমরা (পুলিশ) যদি লাঠিপেটা করি, বলবেন আমরা ফ্যাসিস্ট পুলিশ। আর আমরা যদি নীরবে থাকি, তাহলে বলবেন দুর্বল পুলিশ। আমাকে তো কাজ করার পরিবেশ দিতে হবে। এমপাওয়ার করতে হবে।”

সম্প্রতি বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের কার্যকর ভূমিকা এবং দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তাঁর বক্তব্যের মূল তাৎপর্য হলো, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে রাজনৈতিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে থেকে আইন ও সংবিধান অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিতে হবে। দেশের জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের জানমাল এবং সরকারি সম্পত্তির রক্ষায় প্রয়োজনে পুলিশকে কঠোর ভূমিকা পালন করতে হয়।পুলিশের ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে আইন, সংবিধান ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা অপরিহার্য। অপরাধ দমনে কঠোরতা এবং আইনানুগতার মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। বরং আইন মেনে দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালনই একটি পেশাদার পুলিশ বাহিনীর প্রকৃত পরিচয়।

আইজিপির বক্তব্যের একটি অংশ নিয়ে জনপরিসরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সে ক্ষেত্রে বক্তব্যের প্রেক্ষাপট ও পরবর্তী ব্যাখ্যা বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্য বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে শাস্তি দেওয়ার পক্ষে ছিল না। বরঞ্চ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আইন প্রয়োগের কঠোরতার মাত্রা নির্ধারণে তিনি “ক্রসফায়ার” শব্দটি ব্যবহার করেছেন। তার বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা প্রদান করে পুলিশের কার্যক্রম কে প্রশ্নবিদ্ধ করা সহ একটা বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে। পুলিশ প্রধান তার বক্তব্যে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যে, ” আইন এবং সংবিধান অনুযায়ী আমাকে দায়িত্ব পালন করতে দিন।” তিনি বলেন, “আপনার সুখে, শান্তিতে বসবাস করতে হলে পুলিশের কোনো বিকল্প নাই। যত বাহিনীই বলি, সেনাবাহিনী বলি, তারা দেশ রক্ষা করবে, সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবে। ইন্টারনাল শৃঙ্খলা, শান্তি, সমৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন—সবকিছুই আপনার-আমার সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে অর্জন করা সম্ভব।” তাহার পুরো বক্তব্য জুড়েই ছিল জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি আইন ও সংবিধান অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করা। পুলিশ প্রধান বলেন, ” আইন-সংবিধান অনুযায়ী আমাদের চলতে হবে। সেই জিনিসগুলো যদি আমরা না করি, সমাজে কেউ আপনারা দিনে হোক রাতে হোক কোথাও শান্তিতে বসবাস করতে পারবেন না।” তার কথার প্রমাণ আমরা পেয়েছি ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী কয়েকদিনের ঘটনা পর্যালোচনা করলেই স্পষ্ট হবে যে, পুলিশ না থাকলে বা ঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে না পারলে দেশের পরিস্থিতি ঠিক কেমন হতে পারে। আমরা সেই সময় দেখেছি, কীভাবে একটি গোষ্ঠী দেশের স্বার্থ না দেখে তাদের ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থ করতে সারা দেশে অস্থিরতা তৈরি করেছে। কিভাবে মানুষ রাত জেগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে?

পুলিশের কাজ অনেকটা রোগাক্রান্ত মানুষের শরীরে সার্জারি করার মতো। কাঁটা-ছেড়া হবে, খানিকটা রক্তও বের হবে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত রোগ সাড়িয়ে সুস্থ করে তুলবে। এখানে পুলিশ প্রধানের রূপক অর্থে ব্যবহৃত “ক্রসফায়ার” শব্দটিকে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে অপব্যাখ্যা করা হচ্ছে যাহা জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। আইজিপি আলী হোসেন ফকির তাহার বক্তব্যে উক্ত বিষয়টিকে স্পষ্ট করে বলেছেন, “বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা তো আমরা কোনো মানবাধিকার লঙ্ঘন করি নাই। আমরা কোনো আনওয়ান্টেড ফোর্স অ্যাপ্লাই করি নাই।” এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধী গ্রেফতার, অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ এবং সরকারি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে চলতি ২০২৬ সালের প্রথম ১০ মাসে পুলিশের ওপর ১৭৬টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলায় চারজন পুলিশ প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৩৭০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। দেশের প্রচলিত আইন বিশেষ করে আত্মরক্ষার অধিকার, দণ্ডবিধি-১৮৬০, ফৌজদারী কার্যবিধি-১৮৯৮ এবং পুলিশ অ্যাক্ট-১৮৬১-এ পুলিশের আত্মরক্ষার অধিকারের কথা বলা রয়েছে।

পুলিশের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তিনি উল্লেখ করেন। সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “কিন্তু আমাদেরও চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স আছে। আমাদের সদস্যরা কেউ অপরাধ করলে আমরা যদি ব্যবস্থা না নিই, তখন আপনি বলতে পারেন যে, ‘আপনারা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন নাই।’ “আবার মিথ্যা অভিযোগ, গুজব এগুলায় কান না দিয়ে আসলে প্রকৃতপক্ষে যে ঘটনা ঘটছে সমাজে, সেটার প্রতিকার করার জন্য আমরা সবাই মিলে কাজ করি।” অনিয়ম ও অপরাধের তথ্য অনুসন্ধান এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় তুলে ধরা গণমাধ্যমের দায়িত্ব। অন্যদিকে, কোনো অভিযোগ প্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য গ্রহণও সমান গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশ ও গণমাধ্যম পরস্পরের প্রতিপক্ষ না হয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে জনস্বার্থ রক্ষায় তারা পরস্পর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

পুলিশের হাত আইন দিয়ে বাধা। সবকিছুর ক্ষেত্রেই পুলিশকে আমরা ভিলেন না বানাই। পুলিশের কাজের প্রয়োজনীয় সমালোচনার পাশাপাশি তাদের পাশে দাঁড়ানোও আমাদের দায়িত্ব। পুলিশ যদি আইনগত দায়িত্ব পালন করতে না পারে, তাহলে রাষ্ট্রে নিরাপত্তা বলতে কিছু থাকবে না। কাজেই পুলিশকে প্রতিপক্ষ না ভেবে তাদের কাজের পরিবেশ সৃষ্টি করে দিতে হবে। তা না হলে ভোগান্তির শিকার হতে হবে সবাইকেই।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd